বিসিক চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাংলাদেশ ডাইভারসিফাইড জুট প্রোডাকশন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময়

বাংলাদেশ ডাইভারসিফাইড জুট প্রোডাকশন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. রাশেদুল করীম মুন্না এবং অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর চেয়ারম্যান জনাব বেনজীর আহমেদ।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পাটশিল্প, বহুমুখী পাটজাত পণ্য উৎপাদন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ এবং পাটপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পাটপণ্যের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বাজার সৃষ্টি এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় পাটশিল্পের উদ্যোক্তা ও উৎপাদনকারীদের বিভিন্ন সমস্যা, উৎপাদন ব্যয়, কাঁচামালের সহজলভ্যতা, দক্ষ জনবল, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পণ্যের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং শিল্প অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. রাশেদুল করীম মুন্না বাংলাদেশের পাটশিল্পের বর্তমান সম্ভাবনা ও উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বহুমুখী পাটপণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন পণ্য উদ্ভাবন, পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশের পাটপণ্যের ব্র্যান্ডিং ও প্রচারণা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিসিক চেয়ারম্যান জনাব বেনজীর আহমেদ পাটশিল্প ও ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নে উদ্যোক্তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি পাটভিত্তিক শিল্পের বিকাশ, উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশীয় উৎপাদনকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মতবিনিময়কালে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বাংলাদেশের বহুমুখী পাটপণ্য শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়টি দেশের পাটশিল্পের উন্নয়ন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
